Showing posts with label sports. Show all posts
Showing posts with label sports. Show all posts

মঈন আলীকে 'সেভ গাজা' ও 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' ব্যান্ড পরতে দিল না আইসিসি





‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ও ‘সেভ গাজা’ ব্যান্ড হাতে ইংলিশ ক্রিকেটার মঈন আলী

অবরুদ্ধ গাজার উপত্যকার ওপর ইসরাইলি
পাশবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য হাতে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ও ‘সেভ
গাজা’ ব্যান্ড পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন ইংলিশ
ক্রিকেটার মঈন আলী। কিন্তু  আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল- আইসিসি তার এ
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।






২৭ বছর বয়সি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এ
খেলোয়াড়কে আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার সময় এ
ব্যান্ড পরা যাবে না। আইসিসি’র একজন মুখপাত্র বলেছেন, “যেসব পোশাক বা
বার্তায় রাজনৈতিক, ধর্মীয় অথবা বর্ণবাদী তৎপরতা প্রকাশ পায় তা আন্তর্জাতিক
খেলায় ব্যবহার নিষিদ্ধ।”


মঈন আলী হাতে এসব ব্যান্ড পরার
পাশাপাশি অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য তহবিল সংগ্রহ করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।
আইসিসির এ নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।


সুত্র : রেডিও তেহরান




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

"নাইজেরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা" ইরানের বিদায়






নাইজেরিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ‌ ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা।






অধিনায়ক লিওনেল মেসির জোড়া গোল ও মার্কোজ
রোজোর একমাত্র গোলে সুপার ঈগলদের বিপক্ষে ৩-২ এ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে
আলেসান্দ্রো স্যাবেলার শীর্ষরা। নাইজেরিয়ানদের পক্ষে জোড়া গোল করেন
স্ট্রাইকার আহমদ মুসা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে গেলেও দ্বিতীয় রাউন্ডের
টিকিট পেয়ে গেছে নাইজেরিয়া।





বুধবার সালভেদরের অ্যারেনা ফন্তে নোভা
স্টেডিয়ামে তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মাসচেরানোর পাস থেকে ডি
বক্স ঢুকে জোরালো শট নিয়েছিলেন আনহেল দি মারিয়া। গোলরক্ষক ভিনসেন্ট এনিয়ামা
পরাস্ত হলেও বল জালে যায়নি, বারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সুযোগ পান
মেসি। দুইজন ডিফেন্ডার এগিয়ে এসেছিলে কিন্তু রুখতে পারেননি মেসিকে। জোরালো
শটে লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। প্রতিযোগিতায় নাইজেরিয়ার জালে এটাই
প্রথম গোল।





গোল শোধ করতে বেশি সময় নেয়নি আফ্রিকার
চ্যাম্পিয়নরা। পরের মিনিটে বাঁ দিক থেকে কাটিয়ে ডি বক্সে ঢুকে ডান পায়ের
কোনাকুনি শটে সের্হিও রোমেরোকে পরাস্ত করেন মুসা।





৪৪তম মিনিটে মেসির চমৎকার একটি ফ্রিকিক ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন এনিয়ামা। কিন্তু দুই মিনিট পরের শটটি আর ঠেকাতে পারেননি।





প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মেসিকে ফাউল
করায় ফ্রিকিক দেন রেফারি। রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে
দলকে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে নেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।


মেসির শটে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন এনিয়ামা। ‘দেয়াল’ এর ওপর দিয়ে আসা বলটি দেখেন অনেক পরে। ততক্ষণে বল খুঁজে নেয় নাইজেরিয়ার জাল।


দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭তম মিনিটে আবার নাইজেরিয়াকে সমতায় ফেরান মুসা। ডি বক্স থেকে জোরালো শটে গোল করেন তিনি।





সমতা ফেরানোর আনন্দ বেশিক্ষণ টেকে নি
নাইজেরিয়া শিবিরে। ৫০ মিনিটে লাভেস্সির কর্নার থেকে গারায়ের হেড রোহোর পায়ে
লেগে জালে জড়ালে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।


৫৮তম মিনিটে রোহোর ক্রস লক্ষ্যে রাখতে
পারেনি মেসি। রাখতে পারলেই হ্যাটট্রিক হয়ে যেতো তার। এর পাঁচ মিনিট পর
অধিনায়ককে তুলে নেন সাবেইয়া।





এদিকে, প্রথম দুইটি ম্যাচ হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও আজ এফ গ্রুপের অপর খেলায় ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।  





নকআউট পর্বে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা উজ্জ্বল
করতে ইরানের সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। তাই শুরু থেকে আক্রমাণত্মক ভঙ্গিতে
খেলতে থাকে ইরান। অন্যদিকে, নিজেদের অভিষেক আসরের শেষ ম্যাচটাতে জয়ের
টার্গেটে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে বসনিয়া।  


২৩তম মিনিটে বসনিয়ার স্ট্রাইকার এডিন জেকো
প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে কিছুটা কোনাকুনি দৌড়ে ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের
জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন। বিশ্বকাপে এটা তার প্রথম গোল। পাল্টা আক্রমণে
পরের মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারত ইরান। কিন্তু ফরোয়ার্ড মাসুদ শুজাই’র শটটি
ক্রসবারে বাধা পায়।


৩১ মিনিটে ইরানের এহেসানের বাম পায়ের একটি শট গোল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে কোনো বিপদ হয়নি বসনিয়ার।





প্রথমার্ধে ১-০ তে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধে
শেষ করে বসনিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তীব্র আক্রমণ শুরু করে ইরান।  ৫৯তম
মিনিটে মিরালেম পেনজিকের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে বসনিয়া।




দ্বিতীয়ার্ধের ৭৯ মিনিটের সময় ইরানের
স্ট্রাইকারে ঘুচাননেজাদ একটি গোল পরিশোধ করেন। এর ঠিক ২ মিনিট পর
ভ্রাসাজেভিচের গোলে ব্যবধান ৩-১ করে নেয় বসনিয়া। জিতেও কোনো লাভ হলো না
বসনিয়ার৷ তারাও ইরানের পথ ধরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল।


সুত্র : রেডিও তেহরান


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

রেকর্ড আর্জেন্টিনার পক্ষে তবুও কথা থেকে যায়




লাতিন ফুটবলের অন্যতম প্রতিভূ আর্জেন্টিনা দুই ম্যাচে জয়ী হয়ে উঠে গেছে ‘হাউজ অব সিক্সটিনে’। শেষ ম্যাচ আজ। এবার তাদের প্রতিপক্ষ সেই চিরচেনা আফ্রিকার ফুটবল পরাশক্তি নাইজেরিয়া। আর্জেন্টিনা ৬ এবং নাইজেরিয়া ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। আর্জেন্টিনা চাইছে এই ম্যাচে নাইজেরিয়াকে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে। অন্য দিকে নাইজেরিয়ার স্বপ্ন এই খেলায় আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে গ্রুপ শীর্ষ হওয়া। তবে হেরে গেলে তাদেরকে অনেক হিসাব-নিকাশের মধ্যে পড়তে হবে।


আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে বসনিয়াকে ২-১ এবং ইরানকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে। তবে তাদের খেলা মন ভরাতে পারেনি। মেসি দু’টি নান্দনিক গোল করেছেন ঠিকই। তবে ম্যারাডোনার দেশটিকে তাদের চিরচেনারূপে দেখা যায়নি। বাছাই পর্বে তাদের দাপটের ধারাবাহিকতা দেখে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার হাতে রয়েছে দুনিয়া কাঁপানো আক্রমণভাগ। হিগুয়েন, অ্যাগুয়েরো, ডি মারিয়া এবং সবার ওপরে থাকা মেসি। তাদের মধ্যে মেসির উপস্থিতি হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো দেখা গেলেও ডি মারিয়া, অ্যাগুয়েরো কিংবা হিগুয়েনকে তেমন উজ্জ্বলভাবে দেখা যায়নি। যদিও মারিয়া জানিয়েছেন, তাদের দুই সেরা স্ট্রাইকার হিগুয়েন অ্যাগুয়েরো ইনজুরিতে। তাই তারা তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারছেন না। বসনিয়া ও ইরানের বিপক্ষে এই দুইজনকে নি®প্রভ মনে হয়েছে।



 এ ছাড়া আর্জেন্টিনা তাদের চিরায়ত ঐতিহ্যিক স্টাইলকে মাঠে দেখাতে পারছে না। ছোট ছোট পাস। শিল্পকে ধারণ করে এগিয়ে চলা এবং মাঝমাঠ দিয়ে হঠাৎ করেই দ্রুতগতিতে আক্রমণ করা। কিন্তু দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনার সেই ম্যাচের ধারা দেখা যায়নি। বসনিয়ার সাথে চেষ্টা করেছে তারা। তবে ইরানের শক্তিশালী ডিফেন্সের সামনে অনেকটা অসহায় মনে হয়েছে মেসি বাহিনীকে। ম্যাচের শেষ মিনিটে মেসির আচমকা মাপা শটে গোল না হলে হয়তো ড্র হয়ে যেত ম্যাচ। আজকে আর্জেন্টিনা তাদের ছন্দময় খেলা খেলে নাইজেরিয়াকে চাপে রাখবে। সুন্দর ফুটবল খেলাটা আর্জেন্টিনার কাছে প্রধান বিষয়। ঈর্ষণীয় স্ট্রাইকিং জোন নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় প্রতিপক্ষের ওপর। সুন্দর খেলার পাশাপাশি গোলও করতে হবে স্ট্রাইকার জোনকে। তাই কোচ হিগুয়েন এবং অ্যাগুয়েরোর বিকল্প হিসেবে লাভেজ্জি ও পালাসিওর কথা মাথায় রেখেছেন।



 তাদের তিনি ইরানের বিপক্ষে মাঠে নামিয়েছেন। মাঝমাঠে দীর্ঘদেহী নাইজেরিয়ার ফুটবলারদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা তাদের টেকনিক দিয়ে প্রাধান্য বিস্তার করতে চাইবে। ফলে ডি মারিয়াকে আরো গতিময় হতে হবে। মাসকেরানো, পাবলো জাবালেতা, গাগো, রোজা কিংবা ফ্রেডরিককে তাদের সেরাটা দিয়ে আর্জেন্টিনাকে এক দলে পরিণত করতে হবে। শুধু মেসির দিকে চেয়ে থাকলেই হবে না। তাকে সহায়তাও করতে হবে। যদিও কোচ সাবেলা বলেছেন, মেসির মতো একজন তারকা ফুটবলার থাকলে যেকোনো ম্যাচের চরিত্র বদলে যেতে পারে। বসনিয়া ও ইরানের বিপক্ষে মেসি যে ম্যাজিক মুহূর্ত নির্মাণ করেছিলেন আজো কি তা দেখা যাবে। যদিও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মেসির ম্যাজিক মোমেন্ট দেখার জন্য আশা করে আছে। সাবেলা একটা বিষয়ে তেমন চিন্তিত নন। তা হলো তার দলের কারো তেমন বড় কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। সবাই পুরোপুরি ফিট।




নাইজেরিয়ার সামনে এক কঠিন পরীক্ষায় তাদের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি তারা। বসনিয়ার সাথে জয় পাওয়ার পর তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। আর্জেন্টিনার সাথে ড্র করতে পারলেই তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর আবার তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে। নাইজেরিয়া ২০০২ এবং ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে তারা সবার নিচে ছিল। গত বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া পরাজিত হয়েছিল গ্রিসের কাছে। স্টিফেন কেশি কোচ হিসেবে আসার পর ২০১৩ সালে নাইজেরিয়া জয় করে আফ্রিকান নেশনস কাপ। এবার সুপার ঈগলরা দ্বিতীয় রাউন্ডের কাছাকাছি। দলে আছেন জন ওবি মাইকেল। তিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে চমৎকার নৈপুণ্য দেখাচ্ছেন। এ ছাড়া ওগেনাই ওনজি চার ডিফেন্সের একজন, যিনি দলকে সব সময় শক্ত অবস্থানের ওপর দাঁড় করাতে চান। নাইজেরিয়ার সেরা তারকা অবশ্য ওদেমউইঙ্গি।



এই স্ট্রাইকার দলের হয়ে দৃষ্টিনন্দন কারিশমা দেখাচ্ছেন। এমনকি গোলও করেছেন। তিনি পাসিংয়ের ক্ষেত্রে ৯১ ভাগ সফল এবং গোলের সুযোগও সৃষ্টি করেছেন। ইমানিকের সাথে যৌথভাবে আক্রমণ রচনা করতে ভালোবাসেন ওদেমউইঙ্গি। তবে নাইজেরিয়ার ভিক্টর মোজেস এবং গডফ্রে ওরোয়াবোনি ইনজুরিতে পড়েছেন। তাদের কোচ অবশ্য আশা করছেন যে, তারা দুইজন আজ খেলতে পারেন।


নাইজেরিয়া ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম বসনিয়াকে পরাজিত করে জয়ের মুখ দেখল। ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর এবার তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া এখন পর্যন্ত কোনো গোল খায়নি। আর্জেন্টিনা এর আগে নাইজেরিয়ার সাথে ৬ বার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যে চারবার জয়ী হয় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে শেষ ১৬-তে উঠে গেছে। তবে নাইজেরিয়ার সাথে তারা পরাজিত হলে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থাকবে।
নাইজেরিয়া দুর্দান্ত খেলেছে বসনিয়ার সাথে। তারা গোলও পেয়েছে। তারা কাউন্টার অ্যাটাকে বসনিয়াকে গোল দিয়েছিল। সেই একই ধারায় খেলে তারা আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করতে চায়। তবে মেসি এমন একজন ফুটবলার যিনি দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। ফলে আর্জেন্টিনাই ম্যাচে প্রাধান্য বিস্তার করবে এবং ২-১ গোলে জয়ী হবে।





Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ধোনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আদালতের




 ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল অন্ধ্রপ্রদেশের একটি আদালত। হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর আগে তিন তিন বার অনন্তপুরের ওই আদালত ধোনিকে হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন দিয়েছিল। কিন্তু ধোনি আদালতে হাজিরা দেননি। এরপরই বিচারক ধোনিকে আগামী ১৬ জুলাই আদালতে পেশ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।

একটি ম্যাগাজিনের কভারে প্রকাশিত ধোনির একটি ছবির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্থানীয় এক নেতা গত ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন। বিজনেস টুডে-র ২০১৩-র এপ্রিল সংখ্যায় ভগবান বিষ্ণুর বেশে ধোনির একটি ছবি প্রকাশিত হয়। ওই ছবিতে ধোনির হাতে ছিল জুতো সহ বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য। আদালতে দায়ের করা পিটিশনে ওই ভিএইচপি নেতা অভিযোগ করেন যে, এক হিন্দু দেবতার অবমানণা করে ওই ছবির মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হয়েছে।ধোনির বিরুদ্ধে একই ধরনের পিটিশন দিল্লি,পুনে ও অন্যান্য কয়েকটি শহরেও দায়ের করা হয়েছে।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

৬ আঙুলে ৬ষ্ঠ ‍বিশ্বকাপ!




ফুটবলভক্ত এক পরিবার তাদের হাতের আঙুলকে এবারের বিশ্বকাপে তাদের প্রিয় দলের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করছেন!

সিলভা পরিবার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার প্রান্তে অগোঁয়া ক্লারা শহরে বাস করেন। ওই পরিবারের ১৪ সদস্যের সকলের প্রত্যেক হাতে ছয়টি করে আঙুল রয়েছে। জেনেটিকভাবে ব্যতিক্রমী এই পরিবারের সদস্যদের আশা তাদের ছয়টি আঙুলই ব্রাজিলকে ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।

ছয় আঙুলের ওই পরিববারের সদস্যদের নিয়ে ব্রাজিলের গণমাধ্যমে বেশ সাড়া পড়ে গেছে। তাদের আঙুলকে ব্যবহার করা হচ্ছে হেক্সা মিশনের অন্যতম প্রতীক হিসেবে। বার্তা সংস্থার এপি’র প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সিলভা পরিবারটির সদস্য আনা ক্যরোলিনা বলেন, 'গত বিশ্বকাপের পর থেকেই আমরা চাচ্ছি ব্রাজিল যেন হেক্সাচ্যাম্পিও (পর্তুগীজ ভাষায় ৬ষ্ঠ বারের চ্যাম্পিয়ন) হয়। কিন্তু তা হয়নি। এবার আমরা সত্যি সত্যিই জিততে চাই।'





Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

মেসির ললনারা




চাঁদের কলঙ্ক আছে। মেসিরও আছে। নারী, মদ ও ড্যান্স তাকেও স্পর্শ করেছে। করেছে মানে খবর বা গুজব রটেছে। মেসির সব কিছুই যে খবরের আকর্ষণ হবে সেটাই তো স্বাভাবিক। কারণ তিনি বিশ্বের হার্টথ্রব সুপারস্টারই নন, সবচেয়ে ধনাঢ্য ফুটবলারও। এক সিজনে মেসির আয় সাড়ে ১২ মিলিয়ন পাউন্ড। বছরে আরও ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড তিনি পান অ্যাডিডাস, পেপসি ও অন্যদের তরফে। অনেকে মেসিকে বলেন তিনি ফুটবলের সর্বকালের সেরা। ২০১২ সালে তিনি তার দেশ ও ক্লাবের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৬ গোল করেছিলেন। তাই মেসি জাদু কেবল মাঠেই নয়, তার আকর্ষণ বাইরেও।

যেমন তার সাবেক বান্ধবী মাকারেনা লোমেস। তিন বছর আগে তিনি বোমা ফাটালেন এই বলে যে, তার বয়স যখন ১৪ আর মেসির বয়স ১৮, তখন মেসির সঙ্গে তার প্রণয় ঘটেছিল।

তবে এর ইতি ঘটে তিক্ততায়। মায়ের সঙ্গে তিনি শপিং করছিলেন। হঠাৎ খেয়াল হলো এক জোড়া অচেনা বাবা-মা তার পিছু নিয়েছেন। তারা এমনকি তার ছবিও তুলছিলেন। টের পেয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়ান। 

চ্যালেঞ্জ করেন। তখন মাকারেনা দাঁড়িয়েছিলেন একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগে। আচানক তিনি দেখলেন ভদ্রমহিলা ছবি তোলা বাদ দিয়ে তার দিকেই তেড়ে আসছেন। তার হাতে একটি টেলিফোন সেট ও খুন্তি ‘ফ্রাই প্যান’। ভীত ম্যাকারেনা তখন পালানোর পথ খুঁজছেন।

তারা বিশ্বনন্দিত লিওনেল মেসির বাবা-মা। টেলিনোচকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মেসির সাবেক বান্ধবী বললেন, তারা এক পর্যায়ে আমাকে বিদ্রূপ ও অপমান করা শুরু করলেন। তারা ভেবেছিলেন আমি বুঝি উপযাচক হয়ে তাদের ছেলের বাহুলগ্না হয়েছিলাম। মেসির সঙ্গে রাত কাটিয়েছি বলেও তারা সন্দেহ করেছিলেন। আরও বড় ব্যাপার, কোন কারণে তাদের ধারণা হয়েছিল, আমি বুঝি মেসির সঙ্গে আমার প্রণয় নিয়ে কোন ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছি। আসলে এসব কিছুই নয়। আমি কখনও এই স্বল্পমেয়াদি ডেটিং সম্পর্কে কোথাও মুখ খুলিনি। আমাদের মধ্যে কি হয়েছিল, তা আমি কখনও কারও কাছে বলিনি। খুন্তি নিয়ে তাড়া খাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল রোববারের এক অপরাহ্ণে। আমার স্মৃতিতে তা আজও দাগ কেটে আছে। এটা আমার প্রাপ্য ছিল না। আমাকে তাই সেটা আহত করেছিল। মেসির তখন বডিগার্ড ছিল। আমার ছিল না। আমি সাধারণ মানুষের মতোই রাস্তায় বেরিয়েছি। মানুষের সঙ্গে মিশেছি।

তবে এই তিক্ত স্মৃতি সত্ত্বেও মাকারেনার অভিপ্রায় হলো, সুযোগ পেলে অন্তত একটি রাত বিশ্বের এই শ্রেষ্ঠ তারকা ফুটবলারের সঙ্গে কাটানো। তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি তার জন্য আজও এক অসমাপ্ত অধ্যায় রয়ে গেছে।

২০১১ সালের অক্টোবরে একটি ‘হু অ্যাট অল দ্য পাইজ’। এটি দক্ষিণ আমেরিকার টেস্টি ফুটবল ম্যাগাজিন। স্ক্যান্ডাল! লিওনেল মেসি ও মিলিতো ব্রাদার্স আর্জেন্টিনার একটি সেক্স অ্যান্ড অ্যালকোহল পার্টিতে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে যা ঘটেছিল তার বিবরণ প্রথম প্রকাশ করেছিল ইতালির ট্যাবলয়েড কোরিওদেল্লো স্পোর্ট নামের একটি সাময়িকী। জোয়ানা গঞ্জালেজ আর্জেন্টাইন খোলামেলা টিভি স্টার। তিনিই ওই পার্টির আয়োজক ছিলেন। সে রাতে আমেরিকার আরও কিছু সেক্স সিম্বল তাতে অংশ নিয়েছিলেন। মেসি পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে জেরবার হন। বলেন, ‘আমরা ড্যান্স করেছিলাম। পরে কিছু প্লেস্টেশন বাজিয়েছিলাম মাত্র।’ খবরটি দিয়ে ইতালির ওই পত্রিকা কভার পেজের প্রথম শিরোনাম তৈরি করেছিল।

গত ১৪ই অক্টোবর এফটিভিপ্রোডটকম খবর দিয়েছিল যে, প্যারাগুয়ের সুপার মডেল রিকুয়েম দাবি করেছেন লিওনেল মেসি তাকে অর্থের বিনিময়ে কামনা করেছিলেন। ফুটবল দুনিয়ায় তুফান বয়ে গিয়েছিল। অবশ্য তা তেমন কল্কে পায়নি। কারণ ওই সুপার মডেল হৈচৈ ফেলে দিতে সিদ্ধহস্ত। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তিনি ঘোষণা দেন, প্যারাগুয়ে যদি কাপ জেতে তাহলে তিনি নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন। প্যারাগুয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যায়ে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করায় তার তারকাখ্যাতি ধেই ধেই করে উপরে উঠলো। তার খেতাব হলো ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ব্রাইড।’

চিলির একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে মেসি সম্পর্কে রিকুয়েম ওই তথ্য প্রকাশ করলে আলোড়ন ওঠে। তেরোপেডোরস প্রোগ্রামে তিনি যখন ওই বক্তব্য রাখছিলেন তখন ছিলেন রক্তিম ও লজ্জাবনত। তিনি প্রথমে নামটি বলেননি। বলেছিলেন, এক বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা তাকে অর্থের বিনিময়ে শয্যায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উপস্থাপক যখন তাকে নাম প্রকাশের জন্য পীড়াপীড়ি করছিল তখনও সে নীরব থাকে। হঠাৎ টিভির ভেতর থেকে শ্রোতারা অন্য কারও কণ্ঠ শুনতে পান। ‘লিওনেল মেসি, লিওনেল মেসি।’ সুপারমডেল তখন সম্মতিসূচক মাথা নাড়েন। তিনি সরাসরি মেসির নামটি নেননি। জন অ্যান্ড্রজ মন্তব্য করেছিলেন দেখাই যাক ২০১৪ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন কিনা। ইন্টারনেট ঘেঁটেও অবশ্য এর কোন হদিস মেলেনি।  

নারী ছাড়াও অন্য অনেক বিখ্যাতের মতো করফাঁকির অভিযোগও তাকে তাড়া করেছিল। গত জুনেই খবর বেরিয়েছিল মেসি তিন বছর ধরে চার মিলিয়ন পাউন্ড কর ফাঁকি দিয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে, মেসির ইমেজ রাইটস বিক্রয়লব্ধ আয়ের কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে। মেসি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত জুলাইয়ের ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিরর খবর দিলো মেসিকে মার্কিন জুয়াস্বর্গ লাস ভেগাসে এক নর্তকীর সঙ্গে পোজ দিয়েছেন। অবশ্য তারা সে খবরটির বরাত দিয়েছিল আর্জেন্টিনার প্রোন্টো ম্যাগাজিনের। লাস ভেগাসের নাইটক্লাবে তাকে ওই স্বর্ণকেশী ললনার বুকের দিকে চোখ রেখে হাত দিয়ে তার কোমর জড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সপ্তাহে আড়াই লাখ পাউন্ডের এই ফুটবল স্টারকে নিয়ে প্রকাশিত খবরের শিরোনাম ছিল ‘দ্য ফটো দ্যাট পুটস লিওনেস মেসি’চ ম্যারেজ অ্যাট রিস্ক।’ ওই ছবি তার বিয়েটা ঝুঁকিতে ফেলবে একথা বলার কারণ ছিল যে, তার আগের বছরেই মেসি পিতা হয়েছিলেন।

এমনকি দাবি করা হয়েছিল যে, ওই ছবি দেখার পরে ২৫ বছর বয়সী তার বান্ধবী  রাকুজ্জোর সঙ্গে তার আলোচনা সঙ্কটে পড়েছিল। ‘কারণ সে ভেবেছে মেসি তাকে ওই নারীর কাছে খাটো করেছে। এ জন্য মেসি রেড কার্ড পাবেন কিনা সেটা পরে দেখা যাবে কিন্তু আপাতত সোফা বদল ঘটেছে। ম্যাগাজিনটি ওই ছবি ছেপে তার নিচে শিরোনাম করেছিল, লিও ও অ্যান্টোলেনা, পুত্র থিয়াগোর মা তাদের দাম্পত্যের কঠিন সময় অতিক্রম করছেন।

ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনাল্ডোর আমন্ত্রণে মেসি লাস ভেগাসে গিয়েছিলেন। অ্যান্টোলেনাকে মেসি জানেন তার ৫ বছর বয়স থেকে। কিন্তু ২০০৯ সালের আগে তাদের মধ্যে প্রণয়ঘটিত অনুরাগ দেখা যায়নি। গত নভেম্বরে টুইটারে অ্যান্টেলোনা তার পুত্র সন্তান প্রসবের খবর দিয়েছিলেন। আর লাস ভেগাসের মন্দ খবরটি ছাপা হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন মেসি ও তার পিতা জর্জ হোরাসিও ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্যাক্স ফাঁকির দায়ে মিডিয়ায় আলোচিত ছিলেন।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

আশরাফুল ৮ বছর নিষিদ্ধ




আট বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম গতকাল বুধবার আশরাফুলের বিরুদ্ধে এ শাস্তি ঘোষণা করেন। আশরাফুলের সঙ্গে শাস্তি ভোগ করতে হবে বিপিএলে তার দল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক শিহাব জিসান চৌধুরীকেও। তিনি নিষিদ্ধ হয়েছেন ১০ বছরের জন্য। এই মেয়াদে ক্রিকেটের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে থাকতে হবে তাকে। এ ছাড়া শাস্তি পেতে হয়েছে লু ভিনসেন্ট ও কৌসল লুকারাচ্চিকেও। নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার এই দুই ক্রিকেটারের শাস্তির মেয়াদ যথাক্রমে তিন বছর ও ১৮ মাস। গতকাল আশরাফুল ও তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে রায় জানিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। অনুপস্থিত অভিযুক্তদের তাদের রায় জানানো হয় স্কাইপের মাধ্যমে। এদিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আশরাফুল। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারি শেষ করে দিল আশরাফুলের ক্যারিয়ার। তার কলঙ্কিত বিদায়ে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়েরও। যে অধ্যায়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ-বেদনা, উল্লাস-হতাশার নানা রং।

 ২০০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর টেস্ট অভিষেক হয় আশরাফুলের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। আশরাফুলের সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত। ৬১ টেস্ট খেলে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের সেরা এই ব্যাটিং প্রতিভা। বিশ্বের সব বড় দলের বিপক্ষে অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন ১৭৭ ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে ৩টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ২০টি হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি। বেশ কয়েকটি ম্যাচ একা হাতে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন আশরাফুল। একটা সময় তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের একমাত্র ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন তিনি। নিজের ব্যাটিং দ্যুতিতে যেভাবে সুপার স্টার বনে গিয়েছিলেন, ঠিক তার উল্টোভাবেই কলঙ্কিত হয়ে খসে পড়লেন আশরাফুল।  আগামী আট বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে আশরাফুলকে। আট বছরের দীর্ঘ সাজার মেয়াদ শেষ করে ৩০ বছর বয়সী তারকার ফের ক্রিকেটে ফেরা প্রায় অসম্ভব।

এদিকে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে একাধিক ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে সব। ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মোহাম্মদ আশরাফুলসহ তাদের একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের মোট চারটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে শাস্তি ঘোষণা করেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তার অপরাধ। ওই ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফির বদলে অধিনায়কত্ব করেন আশরাফুল। একই সঙ্গে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ মেলে দলটির মালিক শিহাব চৌধুরীর বিপক্ষেও। পরে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) সুপারিশে ফিক্সিংয়ের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। মোট দশজন অভিযুক্তের বিচার করেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে চারজন চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হন। গতকাল এই চারজনেরই শাস্তি ঘোষণা করা হয়। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শিহাব চৌধুরীকে জরিমানা করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেও আশরাফুল যদি শাস্তির মেয়াদের প্রথম পাঁচ বছর আইসিসি, এসিসি ও বিসিবির পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বা বিশেষ শিক্ষা উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন এবং সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী চলেন, তবে তার শাস্তির শেষ তিন বছর মওকুফ করা হতে পারে। শাস্তি ঘোষণার সময় এমনটি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি জানান, আশরাফুল এবং শাস্তি পাওয়া অন্য তিনজন আগামী ২১ দিনের মধ্যে ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে আপিল করতে পারবেন। এরপর তারা চাইলে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতেও নিজেদের শাস্তির বিপক্ষে আপিলের সুযোগ পাবেন।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। যাতে নির্দোষ বলে রায় দেয়া হয় অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিক, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিনকে। তাদের সঙ্গে নির্দোষ হিসেব রায় দেয়া হয় ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী গৌরব রাওয়াদ ও ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সকে। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ে যৌথ বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আইসিসি ও বিসিবি।

গত এক বছর থেকে আশরাফুল সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল প্রধান জানান, আট বছরের শাস্তিতে এই এক বছরও ধরা হবে। ফলে আশরাফুলকে ভোগ করতে হবে সাত বছরের শাস্তি। এর মধ্যে তিনি যদি আইসিসি, বিসিবি ও এসিসির কথা পাঁচ বছর মেনে চলেন, তবে শাস্তি বাদ যাবে আরো তিন বছর। তারপরও অন্তত চার বছর নিষিদ্ধ থাকতে হবে ৩০ বছর বয়সী আশরাফুলকে। এ সময়টা পার করে আবার ক্রিকেট মাঠে আশরাফুলের ফেরা প্রায় অসম্ভব। সে হিসেবে আপাত দৃষ্টিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্যারিয়ারের শেষ ঘোষণা করে দেয়া যায় কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়াই। ক্যারিয়ারজুড়ে রহস্যময় উত্থান-পতনের জন্য আলোচনায় থাকা আশরাফুলের শেষটাও যে এতটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, তিনি নিজেও কি কখনো ভেবেছিলেন তা?

গতকাল ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীসহ উপস্থিত ছিলেন আশরাফুল। রায়ের কপি আগেই হাতে পেয়েছিলেন তিনি। চূড়ান্ত রায় ঘোষণার মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদও কাল জানিয়ে দেয়া হয়েছে। রায়ের পর মুঠোফোনে  নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘২১ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার যে সুযোগ আছে, সেটা আমি করব। আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’



Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ফুটবল যেখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদেরও ‘গ্রেটেস্ট শো'



পুরো বিশ্ব এখন কাঁপছে বিশ্বকাপ জ্বরে৷ কিন্তু এরই মধ্যে মেক্সিকোতে হয়ে
গেল এক ভিন্ন ধরণের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ৷ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে অভিনব
ফুটবল ম্যাচ৷ গত ১৮ বছর ধরে চলছে এই আয়োজন৷






মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে ‘ইগনাসিও ট্রিগুয়েরোস সকার লিগ ফর দ্য
ব্লাইন্ড অ্যান্ড ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ারড' আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফুটবল
চ্যাম্পিয়নশিপ৷ রোববার দূর-দূরান্ত থেকে ক্রীড়ামোদীরা চলে এসেছিলেন
মেক্সিকো সিটিতে জনপ্রিয় এই বিশেষ খেলা দেখতে৷





প্রতিবন্ধীদের
এই খেলায় প্রতি দলে ছয়জন করে খেলোয়াড় থাকেন৷ এঁদের মধ্যে একজন খেলোয়াড়
থাকেন, যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নন, অর্থাৎ দেখতে পান৷ অন্য খেলোয়াড়রা চোখে
পট্টি বেঁধে খেলেন৷ কিন্তু নিশ্চয়ই আপনার মনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে – না দেখে
কীভাবে খেলেন তাঁরা? তাঁদের সুবিধার জন্য বিশেষ ধরনের একটি বল ব্যবহার করা
হয়৷ বলটিতে আঘাত করলে এক ধরনের শব্দ হয়৷ সেই শব্দ শুনেই খেলোয়াড়রা বুঝতে
পারেন বল কোথায় আছে৷ ধাক্কাধাক্কি ও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও খেলোয়াড়রা
ভালোভাবেই পাস করেন, গোল করেন এবং প্রতিরক্ষা করেন৷





এই বিশেষ ধরনের বলটি নিজ কারখানায় তৈরি করেন ৫১ বছর বয়সি কানেলা, যিনি
মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজ কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন৷





৪৪ বছর বয়সি খেলোয়াড় হোসে লুইস মলিনা বলেন, ‘‘দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর
ঘ্রাণ এবং শ্রবণ শক্তি অনেক বেড়ে যায়৷ এই দুটো থেকেই পরিবেশ সম্পর্কে একটা
ধারণা পাওয়া যায়, যা খেলতে সাহায্য করে৷'' তিনি ১৩ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি
হারিয়েছেন৷





লিগের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মোসকেদা লোমেলি বলেছেন, ‘‘আমাদের জন্য এটা ভীষণ
গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিনোদনের জায়গা খুব কম৷ আর পরিবার
নিয়ে এমন বিনোদনের সুযোগ আর পাওয়া যায় না৷''




লিওনেস নেগরোস দলের ৫৩ বছর বয়সি ফুটবলার
মার্কো কামারিলো বললেন, ‘‘রবিবারের ফাইনালে তাঁর স্ত্রী খেলা দেখতে
এসেছিলেন৷ স্ত্রীর ভয় ছিল আমি আঘাত পেতে পারি৷ কিন্তু এই আশঙ্কার চেয়েও
আমার খেলার প্রতি তাঁর মমতা ছিল বেশি৷''



ঐ ম্যাচে কামারিলো একটি গোল করেন৷ ফাইনালে ইটালি ৬-৫ গেমে লিওনেস নেগরোসকে
হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়৷ কিন্তু ভালো খেলার জন্য ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের
খেলোয়াড়দের আলিঙ্গনে সিক্ত হন কামারিলো৷





এপিবি/ডিজি (এপি, রয়টার্স)






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

পর্তুগালকে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানি



বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানি। তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দারুণ এই জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন গত আসরের গোল্ডেন বুট জয়ী টমাস মুলার। ম্যাচের ১২, ৪৫ ও ৭৮তম মিনিটে গোল তিনটি করেন মুলার। এবারের আসরে এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক। বিজয়ী দলের পক্ষে অপর গোলটি করেন মাটস হুমেলস।
সোমবার সালভাদরের আরেনা ফন্তে নোভায় ম্যাচের প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল জার্মানি। পর্তুগালের গোলরক্ষক রুই পাত্রিসিওর মারাত্মক ভুলে বল পেয়েছেলিন সামি খেদিরা। তবে ফাঁকা জালে বল পাঠাতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার।


দশম মিনিটে ডি বক্সে মারিও গোটজেকে পর্তুগালের ডিফেন্ডার জোয়াও পেরেইরা ফেলে দিলে পেনাল্টি দেন রেফারি, সঙ্গে তাকে হলুদ কার্ড।
২০১০ সালের গোল্ডেন বুট জয়ী টমাস মুলারের সফল পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় জার্মানি।
২৫তম মিনিটে ম্যাচে নিজেদের প্রথম সত্যিকারের সুযোগটি পেয়েছিল পর্তুগাল। তবে নানির দুরপাল্লার শটটি অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হলে হতাশায় পুড়তে হয় পর্তুগালের।

৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করে জার্মানি। মেসুত ওজিলের চমৎকার পাসটি গোটজেকে দিতে একটু দেরি করেছিলেন খেদিরা। ততক্ষণে জায়গা মতো পৌঁছে যান ব্রুনো আলভেস। গোটসের জোরালো শট কর্নারের বিনিমিয়ে রক্ষা করেন এই ডিফেন্ডার।
খুব একটা লাভ হয়নি তাতে। সেই কর্নার থেকেই গোল করে ব্যবধান বাড়ান মাটস হুমেলস। টনি ক্রুসের কর্নার থেকে এই ডিফেন্ডারের হেডে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

পাঁচ মিনিট পর পাওলো বেন্তার দলের জন্য আরো বড় আঘাত। পেপে মেজাজ হারানোয় ১০ জনের দলে পরিণত হয় পর্তুগাল।
মুলারের মুখে হাত লেগেছিল পেপের। তাতে চোখমুখ ঢেকে বসে পড়েন জার্মান ফরোয়ার্ড। রেগেমেগে পেপে নিচু হয়ে হালকা গুতো দেন মুলারের মাথায়। মুলার উঠে গিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পেপেও ছাড়ার পাত্র নন। শেষে রিয়াল মাদ্রিদের মেজাজি এই ডিফেন্ডারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর রক্ষণেই বেশি মনোযোগ দিতে হয় পর্তুগালকে। কিন্তু তারপরও তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেয় জার্মানি। গোলটিতে আলভেসের দায় কম নয়।

৪৫তম মিনিটে ক্রুসের ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে সঙ্গে লেগে থাকা মুলারের পায়ে তুলে দেন পর্তুগালের ডিফেন্ডার ব্রুনো আলভেস। সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেননি বায়ার্ন মিউনিখ তারকা মুলার। নিখুঁত লক্ষ্যভেদে ব্যবধান আরো বাড়ান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫১তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল ওজিলের সামনে। একা পেয়েও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি আর্সেনাল তারকা। ফিরতি বল থেকে পেয়েছিলেন মুলার।কিন্তু তার হেড বার উচিয়ে চলে গেলে হ্যাটট্রিকের সুযোগটি নষ্ট হয়ে যায়।
৬৯ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন গোটজে। আন্দ্রে শুরলের পাস বিপজ্জনক জায়গায় খুঁজে পেয়েছিল তাকে। বল নিয়ন্ত্রণে নিতে একটু দেরি করেছিলেন গোটজে। ততক্ষণে দুজন ডিফেন্ডার চলে আসেন আর তার শটটিও চলে যায় বাইরে।
তবে গোলরক্ষকের ভুল ৭৮তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়ে যায় মুলারের।



Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

বার্সেলোনায় যেতে চান আর্জেন্টিনার হিগুয়েইন



ক্রীড়া ডেস্ক, রিওডি জেনেরিও : বার্সেলোনায় সম্ভাব্য যোগদানের গুনজনকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে রোববার আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার গনজালো হিগুয়েইন বলেছেন, স্প্যানিশ জায়ান্টে যোগ দেয়ার গুঞ্জনে তিনি খুশি।

বিশ্ব কাপে মারাকানা স্টেডিয়ামে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়লাভের পর বক্তব্যকালে হিগুয়েইন বলেন, ক্লাব পর্যায়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলতে পারার সুযোগ পেলে তিনি খুশি হবেন।

নেপোলির এ স্ট্রাইকার বলেন, ‘বার্সেলোনার হয়ে খেলতে পারলে যে কোন ফুটবলারই খুশি হবে।’
‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটা আপনার জন্য ভাল সংবাদ এবং এটা যে কোন খেলোয়াড়ের জন্যই খুশির সংবাদ।

ন্যু ক্যাম্পে মেসির সঙ্গে একত্রে খেলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে হিগুয়েইন আরো বলেন, ‘অবশ্যই তার সঙ্গে খেলতে পারলে আমি খুশি হব। এখানে জাতীয় দলে তার সঙ্গটা আমি খুবই উপভোগ করছি।

তবে ইতোমধ্যেই তার সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেছে বলে স্প্যানিশ গনমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে এড়িয়ে যান তিনি।

হিগুয়েইন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে নজর দিচ্ছি না। আমার নজর বিশ্ব কাপের প্রতি।’




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

পর্তুগালের সামনে জার্মান ‘জুজু’




 বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ‘মৃত্যুকূপের’ স্বীকৃতি পেয়ে যায় ‘ডি’ গ্রুপ। একসঙ্গে তিন সাবেক চ্যাম্পিয়নের (ইতালি, উরুগুয়ে ও ইংল্যান্ড) একই গ্রুপে পড়ার ঘটনা যে এবারই প্রথম। পাত্র থেকে দলগুলোর নাম তোলা ভাগ্য পরীক্ষায় একটু এদিক ওদিক হলেই মৃত্যুকূপ হয়ে যেতে পারত ‘জি’ গ্রুপ। তিনবারের  চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ফিফা ব্যালন ডি অর জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ঘানা আর জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র-মৃত্যুকূপের চেয়ে কম কী? সেই ‘জি’ গ্রুপের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত লড়াই দিয়ে আজ সালভাদরে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে জার্মানি ও পর্তুগালের। সাম্প্রতিক সময়ে বড় আসরে পর্তুগিজদের সামনে জার্মানি পরিণত হয়েছে দুর্বোধ্য ‘জুজু’তে। ২০০৬ বিশ্বকাপ আর সর্বশেষ দু’টি ইউরোতে দেখা হওয়া তিন ম্যাচের সবগুলোতেই জিতেছে জার্মানি। চেনা প্রতিপক্ষকে টানা চতুর্থ ম্যাচে হারিয়ে নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরুর লক্ষ্য জোয়াকিম লোর শিষ্যদের।

ইউরো ২০১২’র শুরুই হয়েছিল এই দু’দলের ম্যাচ দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে মারিও গোমেজের গোলে পর্তুগালকে সেবার ১-০ ব্যবধানে হারায় জার্মানি। হাঁটু ও মাংসপেশির চোট কাটিয়ে ওঠা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চোখে নিশ্চয় ওই ম্যাচের প্রতিশোধের নেশা। গত দুই দিনে দলের অনুশীলনের পুরোটা সময়জুড়ে ছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। সতীর্থ উইলিয়াম কারভালহো আর গোলরক্ষক এডুয়ার্ডো বেশ জোর গলায় নিশ্চিত করলেন রোনালদোর  খেলার কথা। চার বছর আগের আসরের শেষ-১৬ থেকে স্পেনের কাছে হেরে বিদায়ের ক্ষত ভুলতেও দলের সেরা তারকাকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়াটা জরুরি পর্তুগিজ কোচ পাওলো বেন্তোর। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-১ গোলে জেতা সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৬৫ মিনিট মাঠে থেকে রোনালদোও বুঝিয়ে দেন জার্মানির সঙ্গে পুরনো হিসাব চুকিয়ে দিতে তিনি প্রস্তুত।

এ ম্যাচে পর্তুগালের সম্ভাবনাও অনেকখানি নির্ভর করছে রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গারের সুস্থতার উপর। কিন্তু ম্যাচটাকে এভাবে দেখতে রাজি নন জার্মান ডিফেন্ডার বেনেডিক্ট হোয়েডেস, ‘এটা জার্মানি বনাম রোনালদো ম্যাচ নয়, জার্মানির খেলা পর্তুগালের বিপক্ষে’। জার্মানি মিডফিল্ডার সামি খেদিরার কাছেও তার রিয়াল সতীর্থ বলেছেন এবার নাকি জার্মান ‘জুজু’ তাড়াবে পর্তুগাল। রোনালদোর সেই সামর্থ্য আছে জেনেও ভয়ডরহীন জার্মানির জার্সিতে ১১৫ তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকা লুকাস পোডলস্কি, ‘আমরা পর্তুগালের বিপক্ষে খেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি, কেবলমাত্র একজন খেলোয়াড়ের জন্য নয়। ও নিশ্চিতভাবেই বিপজ্জনক একজন ফুটবলার যে কিনা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তবে আমাদের তেমন সামর্থ্যরে খেলোয়াড় রয়েছে। আমরা যদি ভালো খেলতে পারি তাহলে ও কি করল তাতে কিছু যায় আসে না’।

আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ডের বাধা পেরিয়ে গত বিশ্বকাপে যেভাবে তৃতীয় হয়েছিল জার্মানির সেই সাফল্য তারা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা পরিণত হয়েছে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নে। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার খেলার জন্য প্রস্তুত হলেও কাঁধের চোট কাটিয়ে উঠতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সহ-অধিনায়ক বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার হাঁটুর চোটের সঙ্গে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ডিফেন্সিফ মিডফিল্ড পার্টনার সামি খেদিরা মারাত্মক হাঁটুর চোটের কারণে রিয়ালের হয়ে মৌসুমের বেশিরভাগ সময় ছিলেন সাইডবেঞ্চে। জোয়াকিম লোর দলে স্ট্রাইকার একজন, ৩৬ বছর বয়সি মিরোস্লাভ ক্লোসা। আর একবার জাল খুঁজে পেলেই যিনি স্পর্শ করবেন  বিশ্বকাপে সর্বাধিক (১৫) গোল করা ব্রাজিলের রোনালদোর রেকর্ড। বায়ার্ন মিউনিখের টনি ক্রুস সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেললে আর্সেনালের মেসুত ওজিলকে দেখা যাবে ‘ফল্স নাইন’ হিসেবে, আক্রমণভাগে ক্লোসার সঙ্গী হিসেবে। অধিনায়ক ফিলিপ লামকে রাইট ব্যাক থেকে মিডফিল্ডে দেখা যাবে কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। আসলে জোয়াকিম লো কৌশলটাই এমন। প্রখর মস্তিষ্ক আর তারুণ্যে ভরা দল নিয়ে গত আটটি বছর যিনি জার্মানিকে সাফল্যের সিঁড়ি দেখিয়ে চলেছেন।





Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ফুটবলময় রাত-দিনগুলো




আমরা ফুটবলময় রাত-দিনগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়েছি! ফুটবলের মাদকতা আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বাতাসভর্তি গোলক পিন্ডটি আমাদের হৃদয়কে নিয়ে এখন ইচ্ছামতো খেলছে। আমরা ফুটবলের সৌন্দর্য আর নিষ্ঠুরতা দেখছি ব্রাজিলের বিভিন্ন ফুটবল চত্বরে। খেলা দেখতে বসে খুঁজে পাচ্ছি জীবনের প্রতিচ্ছবি! এখানেও নেই শেষ কথা! শেষ হিসাব!
অনিশ্চয়তা, অপ্রত্যাশিত ফলফল এবং অসাধারণ ঘটনার জন্ম দেয় বলেই ফুটবলের এত আকর্ষণ! ফুটবল এত লোভনীয়! সেট রুলের মধ্যে জীবন তো পাংসে! বৈচিত্র্য, অপ্রত্যাশিত এবং অনির্ধারিতের প্রতি তাই আমাদের টান সব সময় বেশি! ধারণার বাইরে কি আছে সেটা দেখতে সবাই আগ্রহী!

বুদ্ধিমান মানুষ ফুটবলে কত কিছুই না উদ্ভাবন করেছেন এবং করে চলেছেন তারপরও দেখছি স্বস্তি নেই, নির্ভরতা নেই এক সময় নিজের জানের মধ্যে অসহায়ভাবে বন্দি হতে হচ্ছে! ফুটবল সব সময় পাল্টে যাচ্ছে! অতীত ঐতিহ্য, প্রেক্ষাপট, প্রস্তুতি অনেক সময় মনে হয় কাজে লাগে না! ফুটবলে গোলটাই তো প্রধান। জীবনে যেমন জিতাটাই আসল! সব সময় কি যোগ্যরা জয়ের হাসি হাসতে পারেন! ফুটবলেও তো একই অবস্থা!
চলতি বিশ্বকাপকে ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বিশেষজ্ঞ এবং অতীতের ফুটবল নায়করা অনেক কথাই বলেছেন। বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ করেছেন। এ সবকিছুই ফুটবল গড়ানোর আগে! বাস্তবতায় ফুটবলের প্রতিটি খেলাই কিন্তু নতুন। আর খেলাটা নতুন দিনে। এখানে ধারণা এবং বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে হেরফের হবেই! ইতিমধ্যেই বেশকিছু গরমিল লক্ষণীয় হয়েছে! ফুটবল রহস্যময়ী। কিন্তু ফুটবলের পেছনে একদল আছেন যারা তাদের আসল রহস্যটাকে মুঠোর মধ্যে ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়েন! এদের পরিকল্পনা এক রকম, কিন্তু মুখে যখন বলেন তখন অনেক রহস্যকে ঢেকে কথা বলেন!

আফ্রিকার (২০১০) বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ যথাক্রমে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস এবারকার ড্রতে একই গ্রুপে (বি) পড়েছে। গ্রুপ ম্যাচে প্রথম খেলা গতবারের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপের মধ্যে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ আরেক নতুন সংযোজন। এতে করে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপের একজনকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ উৎসবের ঝলমলে চত্বর থেকে আগেই চলে যেতে হবে।
৮৪ বছরের বিশ্বকাপের ইতিহাস, গতিধারা বৈচিত্র্যময় আর অঘটনে ভরপুর। একটি বিশ্বকাপের সঙ্গে আরেকটির কোনো মিল নেই। গত তিন দিনে আমরা সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। মায়াবী ফুটবল শেষ পর্যন্ত আমাদের কিভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে- এটা আঁচ করতে আরো কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে! গ্রুপ ম্যাচগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এখানেই কিন্তু নির্ধারণ হয়ে যাবে যারা বেড়া টপকাতে পারবে তারা পরবর্তীতে কে কার সঙ্গে লড়বে!

খেলা শুরু হওয়ার আগে ফুটবল পণ্ডিতরা বলেছেন, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অতীতে বিজয়ী আটটি দেশের বাইরে যাচ্ছে না! এবারের বিশ্বকাপ হবে ঐতিহ্য এবং অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে জমজমাট ফুটবল। লাতিন আমেরিকান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহাদেশ থেকে ট্রফি অন্য মহাদেশের কোনো দেশের পক্ষে জেতা কষ্টকর। এদিকে ইউরোপিয়ানরা বলেছেন, এবার তাদের টার্ন! গত ১৯টি বিশ্বকাপে ইউরোপের কোনো দেশ লাতিন আমেরিকা থেকে ট্রফি জিততে পারেনি। লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিল ১৯৫৮ সালে ইউরোপ থেকে ট্রফি জিতেছে। ব্রাজিল এবং ইতালি পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলো ছড়িয়ে চলেছে। স্পেন যদি ব্রাজিলে ট্রফি জিতে তা হলে সে পারবে ইতালি এবং ব্রাজিলের পাশে তার নাম লেখাতে। এদিকে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক ব্রাজিল যথাক্রমে ২০০৬, ১৯৯০, ১৯৮৬ এবং ২০০২-এর পর এই দেশগুলো আর ট্রফি জিততে পারেনি। প্রতিটি দেশ জয়ের ক্ষুধায় ভুগছে! এসব মীমাংসার জন্য আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

২০১০ সালে আফ্রিকার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস হেরেছিল স্পেনের কাছে। এই দুঃখ তারা কিন্তু ভুলতে পারেনি। যদিও তারা তিনবার (২০১০ সালসহ) বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছে। একবার কোয়ার্টার ফাইনাল এবং একবার চতুর্থ হয়েছে। বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি। এদিকে গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের স্বপ্ন তারা লাতিন আমেরিকা থেকে ট্রফি জিতবে! বিশ্বকাপ জেতার জন্য যে ঐতিহ্য এবং অভিজ্ঞতা দুটিই তাদের আছে। এবারকার ৩২টি দলের মধ্যে স্পেনে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় আছেন যারা ইতিপূর্বে বিশ্বকাপ খেলেছে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরেছিল স্পেন তারপর কিন্তু তারা ঠিকই সম্মান দিয়ে ট্রফিতে চুমু খেতে পেরেছে শেষ পর্যন্ত।

অপরদিকে নেদারল্যান্ডস বারবার ভাগ্যের কাছে মার খেয়েছে। তা সত্ত্বেও এবারকার বিশ্বকাপ শুরুর আগে রবেন পার্সিরা নতুন ইতিহাস সৃষ্টির স্বপ্ন দেখেছেন। কোচ সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার রাস্তা দিয়ে শুরু থেকে হাঁটতে চান! নেদারল্যান্ডস চায় গতবারের পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নিতে! এটা বলতেই হবে এই উভয় দলের কোচ দু’জনেই বড্ড বাস্তববাদী। রেজান্টে বিশ্বাসী। তারা স্বপ্নের পথ ধরে হাঁটার ক্ষেত্রে আপসহীন।
গ্রুপ ‘বি’ উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল স্পেন এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে ফুটবল প্রেমিকদের বিশেষ আগ্রহ ছিল উভয় দেশকে ঘিরে। ফুটবলের পণ্ডিতরা তাদের বিশ্লেষণে স্পেনকে এগিয়ে রেখেছিলেন। এর বিভিন্ন সঙ্গত কারণও আছে। যদিও স্পেন গত কনফেডারেশন কাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। অপরদিকে নেদারল্যান্ডসের দলটি অভিজ্ঞ এবং তারুণ্যে ভরপুর। এখানে রবেন পার্সিদের পুরো দলকে নিয়ে সময় মতো ঝলসে ওঠার একটা ব্যাপার আছে। কোচ নুইফল গান তার আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শন দিয়ে পুরো দলকে রাঙাতে চেষ্টা করেছেন! তিনি স্বপ্ন দেখেন ইয়োহান ক্রুইফ, রুডগুলিত, মার্কোফন বাস্তেনের মতো অসাধারণ খেলোয়াড় দলে থাকা সত্ত্বেও যারা পারেননি, বর্তমান দলটিকে দিয়ে তা করাতে। এসবই খেলার আগের কথা।

বাস্তবতার ‘বি’ গ্রুপের উদ্বোধনী খেলায় স্পেন এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে আমরা যে ফুটবল উপভোগ করেছি তা শুধু অবিশ্বাস নয়- বিশ্বকাপে নজিরবিহীন। নেদারল্যান্ডস স্পেনকে পরাজিত করেছে ৫-১ গোলে। পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে স্পেন মাঠে। বিশ্বকাপের গত বিশ বছরে এ ধরনের খেলা আর হয়নি। শুধু আমাদের নয়, পুরো দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষের চোখ লেপ্টে ছিল টেলিভিশনের পর্দায়। খেলা দেখতে দেখতে মনে হয়েছে এ কোন নেদারল্যান্ডসকে দেখছি! ফুটবলের কি চমৎকার চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য! স্পেনকে একপর্যায়ে মাঠে অসহায় মনে হয়েছে! তারা যে এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে এটা স্বপ্নেও ভাবেনি! পণ্ডিতদের ধারণা আর বিশ্লেষণ পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। আমরা কিন্তু বিমোহিত হয়ে খেলার প্রতিটি মিনিট উপভোগ করেছি। ফুটবল আমাদের আনন্দ আর উত্তেজনা উপহার দিয়েছে।

‘ডি’ গ্রুপের ইতালি ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার খেলার দিকে এখন তাকিয়ে আছি। বিগত দিনের দুই চ্যাম্পিয়নের মধ্যে এই খেলাটি জমজমাট হবে বলে মনে করছি। জয়ের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড এগিয়ে আছে। তবে এবারকার মাঠের লড়াইটা শুধু কথা বলতে পারে! স্পেনকে দাপটের সঙ্গে হারিয়ে দিয়ে নেদারল্যান্ডস অনেক হিসাবকে জটিল করে ফেলেছে- এ দুটি দেশের খেলা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই খেলা গড়ার আগেই আপনারা জেনে ফেলবেন খেলার চূড়ান্ত ফলাফল। ইংল্যান্ড জিতলে একরকম আবার ইতালি জিতলে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে অন্যরকম। মনে হচ্ছে আরেকটি চমক অপেক্ষা করছে। ফুটবল উপভোগ করুন, সুস্থ থাকুন। ফুটবলের আনন্দময় দিনে মানবকণ্ঠের সঙ্গে থাকুন।



Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

জয় দিয়ে শুরু করলো স্বাগতিক ব্রাজিল



শুরুটা দারুণ হলো ব্রাজিলের। এ জয়ের অগ্রভাগে থাকলেন নেইমার। ছবি: রয়টার্সদারুণ এক জয় দিয়েই ‘হেক্সা’ মিশন শুরু করল ব্রাজিল। সাও পাওলোর করিন্থিয়ানস অ্যারেনায় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেইমারের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল স্কলারির দল। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত কোনো আয়োজক দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারেনি। ১৯৫০ সালে আয়োজক ব্রাজিল নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকো উড়িয়ে দিয়েছিল ৪-০ ব্যবধানে। এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাই ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হিসেবে  ক্রোয়েশিয়া কোন দিক দিয়েই কাঁপুনি ধরানোর মতো দল ছিল না। কিন্তু ম্যাচের শুরুতে কাঁপুনি ঠিকই ধরল ব্রাজিল-সমর্থকদের। আর সেটি ধরালেন এক ব্রাজিলিয়ানই! 

ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল! তাও আবার ব্রাজিলের জালে! মার্সেলের আত্মঘাতী গোলে ম্যাচের ১১ মিনিটে গোল খেল ব্রাজিল! শুরুটা হলো নড়বড়ে। ক্রোয়েশিয়া নয়, তখন ব্রাজিলের সামনে বিরাট প্রতিপক্ষ—চাপ। সেই চাপ বাড়ল ২৭ মিনিটে মডরিচকে ফাউল করে নেইমারের হলুদ কার্ড দেখার পর। যেটি কিনা এবারের বিশ্বকাপে প্রথম হলুদ কার্ড!

ঠিক এর পরেই ম্যাচের গল্পটা গেল পাল্টে। কার্ড দেখে যেন আরও চাঙা হয়ে উঠলেন নেইমার। ঠিক এর দুই মিনিট পর অর্থাত্ ২৯ মিনিটে ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ডের গোলেই সমতায় ফিরল ব্রাজিল। নেইমারের শটটি পোস্টে লেগে ক্রোয়েটদের জালে জড়াল। একটু এদিক-ওদিক হলেই আক্ষেপে পুড়তে হতো সেলেসাওদের।





৬৯ মিনিটে বক্সে ফ্রেডকে ফাউল করে বসলেন দেয়ান লোভরেন। সঙ্গে সঙ্গে রেফারির বাঁশি—পেনাল্টি! পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে নিলেন নেইমার। ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক স্তিপে প্লেতিকোসা দারুণ চেষ্টা চালিয়েও নেইমারের শটটি সেভ করতে পারলেন না। নেইমারের জোড়া গোলে হলুদের ঢেউ উঠল গোটা স্টেডিয়ামে। সেই ঢেউ  আঁচড়ে পড়ল দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকদের মনে।  দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে অস্কারের গোলের পর ব্রাজিল এ বার্তা দিয়ে রাখল—হেক্সা মিশনে নেমেছে সেলেসাওরা। পর্বতপ্রমাণ চাপকে জয় করেই ৩-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ইতিহাসের পাতায় বিশ্বকাপ




ব্রাজিলের সাও পাওলো-তে শুরু হলো ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ৷ আর
বিশ্বকাপ মানেই পুরনো রেকর্ড ভাঙা, নতুন রেকর্ড গড়া৷ তাই নতুনের আগে পুরনো
রেকর্ডগুলোর উপর একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক৷





সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ জিতেছে: ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে)৷





সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ খেলেছেন: মেক্সিকোর আন্তোনিও কারবায়াল (১৯৫০ থেকে ১৯৬৬, পাঁচটি বিশ্বকাপে); জার্মানির লোটার মাটেউস (১৯৮২ থেকে ১৯৯৮, পাঁচবার)৷





কোন কোন দেশ এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছে: ব্রাজিল, উরুগুয়ে, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, ইটালি, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা৷



রুততম গোল: খেলার ১১ সেকেন্ডের মাথায়; ২০০২ সালের বিশ্বকাপে
দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের হয়ে গোলটি করেন হাকান সুকুর; তুরস্ক
জিতেছিল ৩-১ গোলে৷




একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল করেছেন: ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে, সর্বসাকুল্যে ১৩টি৷





(একাধিক বিশ্বকাপ মিলিয়ে) সর্বাধিক গোল: ব্রাজিলের রোনাল্ডো: ১৫টি গোল (১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০০৬-এর বিশ্বকাপে)৷ এবার জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজে হয়ত সে রেকর্ড ভাঙতে পারেন৷




বিশ্বকাপে তরুণতম খেলোয়াড়: উত্তর আয়ারল্যান্ডের নর্মান হোয়াইটসাইড, ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে খেলেন তিনি; হোয়াইসাইডের বয়স তখন ১৭ বছর, এক মাস, দশ দিন৷





বিশ্বকাপে প্রবীণতম খেলোয়াড়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রজার মিলা, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেন; তখন তাঁর বয়স ৪২ বছর, এক মাস, আট দিন৷





সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ খেলেছে যে দেশ:
স্বভাবতই ব্রাজিল! ব্রাজিলই একমাত্র দেশ যারা ১৯৩০ থেকে আজ অবধি কোনো
বিশ্বকাপেই অনুপস্থিত থাকেনি৷ ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে৷


(এএফপি, এপি)


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ঝাঁঝালো গ্যাসে বিবর্ণ বিশ্বকাপের সূচনা




সাও পাওলোতে এরিনা করিন্থিয়াস স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ দমনে দাঙ্গা পুলিশ দুনিয়াজুড়ে যখন সাম্বার তালে তাল মেলানোর অপেক্ষা, ঠিক তখনই ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ঘটে গেছে এক অঘটন। পুলিশের ছোড়া ঝাঁঝালো গ্যাসে অনেকটাই বিবর্ণ হয়ে গেল বিশ্বকাপের জৌলুস। বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। এ সময় সাও পাওলোতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে এরিনা করিন্থিয়াস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধন হয় তার কাছেই এমন অবস্থায় সৃষ্টি হয় এক ভীতিকর পরিস্থিতি। কাঁদানে গ্যাসে রাস্তা অন্ধকার হয়ে যায়। সিএনএন-এর এক সাংবাদিককে দেখা যায়, আহত হয়েও সরাসরি সংবাদ দিচ্ছেন। ওই শহরে সমবেত বিদেশী দর্শক, পর্যটকদের মধ্যে এ সময় ছড়িয়ে পড়ে ভীতি। বিশ্বকাপ উদ্বোধন ও উদ্বোধনী ম্যাচের আগে এমন পরিস্থিতিতে এবারের বিশ্বকাপের গায়ে লাগলো এক কলঙ্ক।



এরিনা করিন্থিয়াস স্টেডিয়ামেই গত রাতে স্বাগতিক ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে হয় উদ্বোধনী ম্যাচ। কিন্তু তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বিশ্বকাপের প্রতিবাদে ওই স্টেডিয়ামের কাছে বিক্ষোভ করে বেশ কিছু মানুষ। তারা এ সময় বিশ্বকাপ বিরোধী স্লোগান দেয়। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। ভেঙে গেছে এক সাংবাদিকের পা। তবে বিক্ষোভকারীরা বলেছে, বিক্ষোভ চলতেই থাকবে। শহরে শহরে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে তা। তাদের কথায়, ব্রাজিলে এখনও কয়েক লাখ নারীকে দেহ বিক্রি করে বাঁচতে হয়। তার সন্তানের দুধ কিনতে হয়। নিজেকে টিকে থাকতে দেহ দান করতে হয় অজানা পুরুষের কাছে। বিশ্বকাপের দর্শকদের জন্য তারা বাড়তি আয়ের জন্য মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার ইজ্জত, তা ফেরি করে বেড়াচ্ছে।



 এছাড়া রয়েছে দুর্নীতি চরমে। এমন একটি দেশে এত বিপুল অর্থ খরচ করে বিশ্বকাপ আয়োজনের কি অর্থ থাকতে পারে! বিশ্বকাপ আয়োজনে শুধু ব্রাজিলই খরচ করছে ১১৭০ কোটি ডলার। এ অর্থে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই অর্থের বেশির ভাগই লোপাট করেছেন রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তারা। শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করা হয় স্টেডিয়াম, রাস্তাঘাট। গত সপ্তাহেও এমন নির্মাণ কাজ করা হয়। এতে এর মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরই প্রতিবাদে গতকাল যে করিন্থিয়াস স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ হওয়ার কথা তার কাছাকাছি বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। লাঠিপেটা করে। টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। গতকাল সারাবিশ্ব যখন জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখার অপেক্ষায় ঠিক তখনই এমন খবরে হতবিহ্বল হয়ে যান তারা। অনেকেরই মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ভাবতে বসে যান, এ অবস্থায় সেখানে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ হবে তো! গতকাল ঘটনাস্থল থেকে সিএনএন-এর সাংবাদিক সাস্তা ডারলিংটন জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



 আহত হয়েছেন তিনি ও প্রযোজক বারবারা আরভানিতিডিস। তারা মনে করছেন বারবারার পা ভেঙে গেছে। সাস্তা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের কোনমতেই স্টেডিয়ামের ধারেকাছে ঘেষতে দেয়া হয়নি। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘দেয়ার ওন্ট বি এ কাপ’ অর্থাৎ এখানে কোন বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা হতে পারে না বলে স্লোগান দেয়। আগে থেকেই এমন বিক্ষোভের পরিকল্পনা নিয়েছিল তারা। গত বছর ৫ লাখেরও বেশি মানুষ দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছে। তারা উন্নত সরকারি সুবিধার দাবি তুলেছে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যে দুর্নীতি তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে। তখন তাদের কথায়, এমন বিশ্বকাপ আয়োজন করে কি লাভ। তারপর থেকেই ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে হয়েছে বিক্ষোভ। এর মধ্যে কোন কোনটিতে হয়েছে সংঘর্ষ।

বর্ণিল উদ্বোধন



নাচে-গানে ভরপুর, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বর্ণিল উপস্থাপনা। বিশ্বসেরা পপ গায়িকা জেনিফার লোপেজের নয়ন-মনোহরী গানে উন্মাতাল মাঠের প্রায় ৭০০০০ দর্শক। সাও পাওলোর করিন্থিয়ান্স এরেনায় ১২টি দেশের প্রধান ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও ছিলেন অপলক। সুরের মূর্ছনায় বিমোহিত আবালবৃদ্ধবণিতা। লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ওলে ওলা। যার অর্থ আমরা সবাই সমান। জেনিফার লোপেজের সঙ্গে এই মহা-আয়োজনে পারফর্ম করেন আরেক জগৎখ্যাত র‌্যাপার পিটবুল। বাদ্যযন্ত্রে ছিল ব্রাজিলের ‘ওলোদাম’। তাদের একদিকে বিক্ষোভ আরেক দিকে বিশ্বকাপ ফুটবল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দেড় ঘণ্টা বাদেই স্বাগতিক ব্রাজিল তাদের হেক্সা মিশনে প্রথম মাঠে নামে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।





গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া তিনটায় জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের। ৭ বছরের প্রস্তুতির পর আরাধনার এই ফুটবলোৎসব। অবাক বিস্ময়ে কোটি কোটি দর্শক। সময় মাত্র ২৫ মিনিট। মন ভরে তো চোখ ভরে না। কয়েক শ’ নৃত্যশিল্পী, বাদক, জিমন্যাস্ট অংশ নেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ব্রাজিলিয়ান গায়িকা ক্লদিয়া লিত্তেও গান পরিবেশন করেন। বেলজিয়ান শিল্প নির্দেশক ডাফিন করনাজ পুরো অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন। ৬ শতাধিক পারফরমার ব্রাজিলের কৃষ্টি-কালচার, ফুটবল প্রকৃতি সব ফুটিয়ে তোলেন নিখুঁতভাবে। মোট ১২০০ জন জড়িত ছিলেন এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে। জানা গেছে, প্রতি মিনিটের পারফরমেন্স নিখুঁত করার জন্য অন্তত ২০ কর্মঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছে। এত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় মহড়াতে যে পারফরমারদের মোবাইল ফোনও নিতে দেয়া হয়নি।



এর আগে গত রোববার খবর বেরোয় জেনিফার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসছেন না। গুঞ্জন ছড়ায় বয়ফ্রেন্ড ও ব্যাকআপ ড্যান্সার ক্যাসপার স্মার্টের সঙ্গে বিরোধের জেরে মন খারাপ লোপেজের। ফিফাও প্রচার করে নিজের প্রোডাকশন নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারবেন না। কিন্তু দু’দিন পরেই অবস্থান বদল। লোপেজ এমন বিশ্বমঞ্চ উপেক্ষা করতে পারছেন না। তিনি আসবেন এবং গাইবেন। কারণ তার গানটি এতটা জনপ্রিয়তা পাবে ভাবতে পারেননি। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৭৫ মিলিয়ন বার ইউটিউবে দর্শক এটি দেখেছেন। যদিও অনেকে বলেন যে, ১৯৯৮ সালে রিকি মার্টিনের কাপ অব লাইফ এবং শাকিরার ওয়াকা ওয়াকা এরচেয়ে অনেক ভাল ও বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এক বার্তায় লোপেজ বলেন, ভক্তদের আমি হতাশ করতে চাই না। আমার জন্ম এমন এক পরিবারে যেখানে সবাই ফুটবল ভালবাসে। সুতরাং এমন আসরে থাকার সুযোগ হারাতে চাই না। আমি এই সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত গর্বিত ও অধীর হয়ে আছি। বিশ্বজুড়ে এ এক অসাধারণ উৎসব।






Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ব্রাজিল বিশ্বকাপের বল ব্রাজুকা বৃত্তান্ত



2014-Brazil-World-Cup-Ball-brajuka-Info

প্রতিবারের মতো এবারো বিশ্বকাপের নতুন বল নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক, গবেষণা৷
খেলোয়াড়দের আশা, ‘ব্রাজুকা’ এবার ভাল খেলাই দেখাবে৷ তবে গতবারের
অভিজ্ঞতার কারণে সংশয়ও পুরোপুরি কাটছে না৷



২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের বল ‘ফেভারনোভা' নাকি ছিল অনেক বেশি হালকা আর ‘বাউন্সি'৷ এর চার বছর পর জার্মানি বিশ্বকাপের বল ‘টিমগাইস্ট'-
এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সেটি নাকি অতিরিক্ত ‘পিছল'৷ আর ২০১০ সালে দক্ষিণ
আফ্রিকা বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি' তো অনেক খেলোয়াড়কে রীতিমতো ভড়কে
দিয়েছিল৷



 ব্যাপক সমালোচনার পর এবার অনেকের মতামত নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই
ব্রাজুকা তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান
আডিডাস৷ জার্মান এই কোম্পানির দাবি, ব্রাজুকাই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি
পরীক্ষিত বল৷



নতুন বলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের পরিচিত করতে গত ডিসেম্বরে ‘ব্রাজুকা'
উন্মোচনের পরপরই বিশ্বকাপে থাকা সবকটি দেশে বলটি সরবরাহ করে আডিডাস৷ আর গত
বৃহস্পতিবার বিশ্বের সামনে আনা হয় ফাইনাল ম্যাচের বলটি, যার নাম দেয়া হয়েছে
‘ব্রাজুকা ফাইনাল রিও'৷



গত দুই বছরে জিনেদিন জিদান, লিওনেল মেসি, ইকার ক্যাসিয়াস, বাস্তিয়ান
শোয়াইনস্টাইগারের মতো ছয়শ খেলোয়াড় ব্রাজুকা পরখ করে দেখেছেন৷ বায়ার্ন
মিউনিখ, এসি মিলানের মতো দলের বিশেষজ্ঞরা এই বল নিয়ে মতামত দিয়েছেন৷
ব্রাজুকার মন বুঝতে নাম আর চেহারা বদলে খেলানো হয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ
আর একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও৷




এবারের বিশ্বকাপ বলের জন্য ব্রাজুকা নামটি ঘোষণা করা হয় ২০১২ সালের
সেপ্টেম্বরে৷ তার আগে নাম নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটিরও আয়োজন করে
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি ও আডিডাস৷





ফিফার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী,
ব্রাজুকা হলো ব্রাজিলের একটি চলতি শব্দ, যার মানে হলো ‘ব্রাজিলীয়'৷ এ
বলের নকশা আর রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দক্ষিণ অ্যামেরিকার বর্ণময় জীবন ও
ফুটবল নিয়ে তাদের উত্তেজনার আবহ৷




জাবুলানি বনাম ব্রাজুকা



গত বিশ্বকাপের বল জাবুলানি বাতাসে ভাসতে ভাসতেই বিচবলের মতো গতিপথ পাল্টে
ফেলত বলে খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে গোলরক্ষকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়
আডিডাসকে৷ ব্রাজিলের লুইস ফাবিয়ানোতো এই বলকে ‘অতিপ্রাকৃতিক' আখ্যাই দিয়ে
ফেলেছিলেন৷




সাধারণ ফুটবল ৩২টি প্যানেল বা টুকরো জোড়া দিয়ে তৈরি করা হলেও জাবুলানি
তৈরি করা হয়েছিল আটটি প্যানেলে৷ আর ব্রাজুকার ওপরের অংশ তৈরি হয়েছে
প্রোপেলার আকৃতির ছয়টি প্যানেল জোড়া দিয়ে৷ আডিডাসের দাবি, প্যানেলগুলো
এমনভাবে জোড়া দেয়া হয়েছে, যাতে বলের গতিপথ হবে অনেক বেশি সুস্থির৷
ব্রাজুকার পিঠও জাবুলানির মতো অতোটা মসৃণ হবে না৷





আডিডাস বলছে, ব্রাজুকার প্যানেলের এই অভূতপূর্ব আকৃতির কারণে উড়ন্ত বলে আসবে আরো গতি৷ বৃষ্টিতে ভিজলেও বলের আকার বা ওজন বদলাবে না৷



ল্যাব টেস্ট



ব্রাজুকা কেমন হবে তা বুঝতে রীতিমতো গবেষণা চালিয়েছেন জাপানের সুকুবা
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক৷ ব্রাজুকার পাশাপাশি জাবুলানি, টিমগাইস্ট আর
২০১৩ সালের কনফেডারেশন কাপের বল কাফুসা নিয়ে নানাভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে
দেখেছেন তাঁরা৷



 এই দুই গবেষক বলছেন, গত বিশ্বকাপের বল জাবুলানির আচরণ বোঝা আসলেই কঠিন ছিল৷ কিন্তু ব্রাজুকার বাতাস কাটার ধরন তার তুলনায় অনেক ভাল৷




সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্সের অধ্যাপক তাকেশি আসাই বলেন, এক
সময় জাপানি নিনজারা যে ধরনের তারকা আকৃতির অস্ত্র ছুড়ে মানুষ বধ করত,
ব্রাজুকার প্যানেলগুলো তৈরি হয়েছে একই নকশায়৷ আর সেগুলো যেভাবে পরস্পরের
সাথে সেলাই করা হয়েছে, সেটাই হলো বলটির মূল শক্তির জায়গা৷





বিশ্বকাপের আগে যেটুকু দেখা গেছে তাতে ব্রাজুকাকে নিয়ে ব্রাজিলের গোলরক্ষক
জুলিও সিজারের কণ্ঠে আশার কথাই ঝরেছে৷ অন্যরাও এ বলকে পছন্দ করবেন বলে তাঁর
বিশ্বাস৷




সুত্র : (রয়টার্স, এএফপি, ফিফা, উইকিপিডিয়া)


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ফ্রান্স জার্মানী আর স্পেনের তিন খেলোয়াড়




ফ্রাংক রিবেরি
এই ফ্রেঞ্চ ফুটবল তারকা জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে লেফট উইংয়ে খেলে থাকেন। এই ফ্রেঞ্চ ফুটবলার তার গতি, কর্মচাঞ্চল্য, পাসিং এবং ড্রিবলিংয়ের জন্য অধিক পরিচিত বিশ্ব ফুটবলে। বলের সাথে পায়ের সম্পর্কের বিচারে রিবেরিকে সমসাময়িক ফুটবলারদের মধ্যে প্রথম কাতারেই রাখতে হবে। বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেয়ার পর এবং তাদের জন্য অনেক সাফল্য বয়ে আনার পর রিবেরি এই সময়ের অন্যতম সেরা ফ্রেঞ্চ ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে। ফ্রেঞ্চ ফুটবলের ৯০ দশকের সেরা তারকা জিনেদিন জিদানের মতে, বর্তমান সময়ে ফ্রান্স ফুটবলের ‘ ফ্রাংক রিবেরি’। নিজ শহরের কাব কন্টি বোলনের হয়ে ১৯৮৯ সালে ফুটবলার হিসেবে তার পথ চলা শুরু। সেখানে সাত বছর কাটানোর পর ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের কাব লিলেতে যোগ দেন রিবেরি। সেখানে পাঁচ বছর তেমন একটা সাফল্য না পেয়ে তুরস্কের কাব গালাতাসারেতে যোগ দেন। সেখানে দু’বছরে একটি লিগ কাপ জয়ের পর নানা বিতর্কের কারণে আবার ফ্রেঞ্চ লিগের দল মার্শেইতে যোগ দেন। সেখানে পরপর দুই মওসুমে ফ্রেঞ্চ কাপ জয় করার পর ২০০৭ সালে জার্মান জায়ান্ট কাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। বেভারিয়ানদের হয়ে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে চুক্তিবদ্ধ হন এই ফ্রেঞ্চ ফুটবলার। বুন্দেসলিগার চার শিরোপা, চার জার্মান লিগ কাপ, ২০১২-১৩ ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা এবং বিশ্ব কাব কাপের শিরোপা জয় তার প্রতিভারই ছবি ফুটিয়ে তোলে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তিন মওসুমে ডাবল এবং এক মওসুমে ট্রেবল জয় করেন রিবেরি। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স ২০১২-১৩ সিজনে ব্যালন ডি অর’র সেরা তিনের তালিকায় তাকে নিয়ে আসে লায়নেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর। ২০০৬ এবং ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা এবং ২০০৮ এবং ২০১২ এর ইউরো খেলা রিবেরি সে সময় থেকে ফ্রান্স দলকে সাফল্য এনে দিতে আরো পরিণত হয়েছেন এবং নিজেও সাফল্য বা শিরোপা লাভের চেষ্টা চালাবেন। কারণ দেশের হয়ে ৮০ ম্যাচে ১৬ গোল করলেও, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৭৮ ম্যাচে ৬৩ গোল করেছেন। দেশের হয়ে সাফল্যের ুধা তাই এখন রিবেরির বেশ চড়া, যা ফ্রেঞ্চ ফুটবল সমর্থকদের মনে আশা সঞ্চার করাচ্ছে।


টমাস মুলার

জার্মানির এই তারকাকে মাঝমাঠের খেলোয়াড় কিংবা স্ট্রাইকার দু’ভাবেই ব্যবহার করা যায়। এমনকি একজন উইঙ্গার হিসেবে বা উইংয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও তার আছে। টমাস মুলার সব সময় তার খেলা অনুযায়ী অবস্থান, অদম্য মানসিক শক্তি এবং দলীয় খেলোয়াড় হিসেবে প্রশংসিত। বায়ার্ন মিউনিখের যুবদলের ফসল আজকের মুলার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সিনিয়র দলে তার সুযোগ হয় ২০০৯-১০ সালে। সে সময় বেভারিয়ানদের কোচ নিযুক্ত হন লুই ভ্যান গলে। সে মওসুমে বায়ার্ন লিগ শিরোপাসহ ডাবল জয় করে এবং ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচে টমাস মুলার নিয়মিত একাদশে ছিলেন এবং কাবের হয়ে সাফল্যে ভূমিকা রাখেন। তার এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ এনে দিয়েছিল। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জার্মানির জাতীয় ফুটবল দলে খেলার ডাক আসে মুলারের। ২০১০ বিশ্বকাপে পাঁচ গোলসহ গোল্ডেন বুট এবং সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার তার পরিশ্রমের স্বীকৃতিই এনে দিয়েছিল। ২০১২ সালের ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে একমাত্র গোলটি মুলারই করেছিলেন কিন্তু কাব শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারে পরাজিত হয়। তার সাবেক কোচ এবং নেদারল্যান্ডসের বর্তমান কোচ লুই ভ্যান গলের মতে, ‘মুলার কৌশলের দিক দিয়ে দারুণ একজন খেলোয়াড় এবং সব সময় উন্নতি করতে চায়।’ বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৬৫ ম্যাচে ৫৮ গোল করা এবং জাতীয় দলের হয়ে ৪৭ ম্যাচে ১৬ গোল করা এই খেলোয়াড় ২০১৩-১৪ সিজন তেমন বায়ার্নের হয়ে তেমন ভালো না কাটালেও জার্মান লিগ কাপে সেরা গোলদাতা হয়েছেন। পাঁচ খেলায় করেছেন আট গোল। জার্মান এই ফুটবলার সব সময় জাতীয় দলের হয়ে সেরাটা দিয়ে থাকে। তাই মুলারের ফর্ম নিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রতিপকে একটি বাড়তি চিন্তা করতে হতেই পারে।


করিম বেনজেমা
করিম মোস্তফা বেনজেমা। এই ফ্রেঞ্চ ফুটবলার স্ট্রাইকার কিংবা উইঙ্গার হিসেবে স্প্যানিশ প্রিমেরা লিগা বা লি লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন। টেকনিক্যাল বা কৌশলী ফুটবল এবং শক্তি এবং মতার সমন্বয় করিম বেনজেমা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজেমা ‘অসাধারণ এক ফুটবলার’ এবং বক্সের ভেতরে সেরা ফিনিশার বা গোল দিতে সম। ১৯৯৬ সালে অলিম্পিক লিঁওতে যোগ দেয়ার পর তার বড় ফুটবলার হয়ে গড়ে ওঠার পালে আরো জোরে বাতাস লাগে। যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা বেনজেমার লিঁওর হয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক হয় ২০০৪-০৫ মওসুমে। পরপর তিন লিগ শিরোপা জয় তাকে রিয়াল মাদ্রিদে নিয়ে আসতে প্রভাবিত করে। এই তিন সিজনেই বেনজেমা লিঁওর হয়ে ২০ এর অধিক গোল করেন। ২০০৮ সালে ৩০ গোল করার পর পরের মওসুমে রিয়াল তাকে চুক্তিবদ্ধ করে। ২০০৯ সালে রিয়ালে এলেও প্রথম দুই মওসুমে কিছুটা সাফল্যের জন্য মানিয়ে নিতে হয় বেনজেমাকে। ২০১১ সালে লিগা বিবিভিএ বা প্রিমেরা লিগায় ৩২ গোল করেন। ২০১১ এবং ২০১২ সালে বছরের সেরা ফ্রেঞ্চ ফুটবলার নির্বাচিত হওয়া বেনজেমা ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ ইউরোতে থাকলেও নিয়মিত একাদশে তেমন একটা সুযোগ পাননি কিন্তু এখন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পেছনে তার ভালো খেলা বিরাট ভূমিকা পালন করবে এবং সমর্থকেরা সেটাই আশা করে। রিয়ালের হয়ে ১৫৯ ম্যাচে ৭২ গোল করা এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ১৯ গোল করা বেনজেমা মুখিয়ে আছেন বিশ্বকাপের জন্য।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

১ জন যৌনকর্মী বরাদ্দ ৫ জন ফুটবল পর্যটকের জন্যে




একেই বলে হয়ত রথ দেখা, কলা বেচা। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে যৌনতা ব্যবসা, সেক্স ট্যুরিজম একেবারে লাগামছাড়া হয়ে গিয়েছে আয়োজক দেশ ব্রাজিলে। বিশ্বকাপ দেখতে ব্রাজিলে আসছেন লক্ষাধিক ফুটবলপ্রেমী, কয়েক হাজার সাংবাদিক, কর্মকর্তারা। আর তাদেরই বিনোদনের জন্য হাজির গোটা বিশ্বের যৌনকর্মীরা।



একেবারে হিসাব কষে সেইসব যৌনকর্মীরা ব্রাজিলে এসেছেন। যেহেতু ব্রাজিলে যৌন ব্যবসা বৈধ তাই, দুবছর আগে থেকেই সরাসরি অনেক যৌনকর্ম ভিসার আবেদন করে রেখেছিলেন। নিয়ম মেনে তাঁদের ভিসা ইস্যুও করা হয়। কিন্তু পরে নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনে বেশ কয়েকজন বিদেশী যৌনকর্মীকে ভিসা দেওয়া হয়নি। নিয়ম পরিবর্তনের পর যৌনকর্মীরাও স্ট্র্যাটিজি বদলান। অনেকেই বলেন, নেহাতই বিশ্বকাপ দেখবেন বলেই তারা ব্রাজিলে আসতে চান।



ব্রাজিল ও বিদেশের প্রায় মোট সাড়ে ১৪ লাখ যৌন কর্মী বিশ্বকাপের সময় পর্যটকদের টার্গেট করবেন। শোনা যাচ্ছে প্রত্যেক পাঁচজন ফুটবল পর্যটকের জন্য একজন যৌনকর্মী থাকছে ব্রাজিলে। সঙ্গে রয়েছে চাইল্ড প্রস্টিটিউশনের ভয়। কারণ আঠারো বছরের উর্দ্ধে ব্রাজিলে প্রস্টিটিউশন ছাড় রয়েছে। সেখানেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে ব্রাজিল প্রশাসন ও ফুটবল আয়োজক সংস্থাদের কাছে। তাঁরা মনে করছেন, সেক্স ট্যুরিজিম তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। প্রায় ৫ লাখের বেশি শিশুকে এই কাজে নিযুক্ত করা হতে পারে।



এক সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানিতে প্রায় ৪০ হাজার যৌনকর্মীকে নিযুক্ত করা হয়েছিল বিদেশী পর্যটকদের জন্য। তাই ব্রাজিল প্রশাসনের কাছে এখন বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশু নিগ্রহ সামলানোর।



ব্রাজিলের এক ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশ থেকে যৌনকর্মীরা ব্রাজিলে ঘাঁটি গেড়েছেন। সাও পাওলোতেই সবচেয়ে বেশী সংখ্যাক ইউরোপিয়ান যৌনকর্মীরা নিজেদের পসরা সাজাবেন। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও যৌন ব্যবসা রমরমা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ব্রাজিল যেন সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।



ব্রাজিলে এখন বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের নয় শরীরী ব্যবসারও হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মাত্র  ৩ দিন বাকি। ফুটবল বিশ্বকাপের সমস্ত প্রস্তুতি কার্যত শেষের দিকে। এখন চলছে পরীক্ষা হলে পাওয়া অতিরিক্ত কিছু সময়। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে নেওয়া। তবে পেলে, নেইমারের দেশে আরও এক খেলা নিভৃতে সাজছে। দেওয়ালে দেওয়ালে সাঁটা হচ্ছে প্রলুব্ধ পোস্টার।



সারা গায়ে বিভিন্ন রঙবেরঙের উলকিতে জোরকদমে নিজেকে আরও সাজিয়ে গুছিয়ে নিচ্ছে ব্রাজিলের অসংখ্য পতিতারা। সারা বছরই বিদেশী পর্যটকরা আসে কিন্তু বিশ্বকাপ মৌসুমে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের মন জয় করতে সবরকমের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিলের পতিতারা। তারা মনে করছে, এইসময় তাদের আয় প্রতিদিনের থেকে দশগুণ বেশি হবে। নবান্নের ঘ্রাণ পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছে তারা।




Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক বিশ্বকাপে সব খেলোয়াড়ের




আসন্ন ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে রেখে বিশ্বমঞ্চকে মাদকমুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাই এবার প্রথমবারের মতো প্রত্যেক ফুটবলারের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে ফিফা। প্রকৃতপক্ষে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের জন্য ‘বায়োলজিক্যাল পাসপোর্ট’র ব্যবস্থা করেছে ফিফা। এতে একজন ফুটবলারের পুরো ক্যারিয়ারের রক্ত এবং মূত্র পরীক্ষার বিস্তারিত দেয়া থাকবে।

গত মার্চ মাস থেকে ফিফার চিকিৎসক ও নার্সদের একটি দল বিভিন্ন দেশে ফুটবলারদের প্রস্তুতি ক্যাম্পে গিয়ে তাদের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করেছে। দলটি গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের প্রস্তুতি ক্যাম্পে গিয়ে ডোপ টেস্ট পরীক্ষা করেছে।

গত বছর কনফেডারেশন কাপে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার, ইতালির অধিনায়ক বুফন এবং স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো বিশ্বের তারকা ফুটবলাররাও এ সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। গত ১৮ মাসে চেলসি, বার্সেলোনা, সান্তোস ও মন্ট্রেরির ক্লাব দলগুলোর খেলোয়াড়দের ডোপ টেস্ট করেছে ফিফা।



Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.

জার্মানি–স্পেন ফাইনাল!




বিশ্বকাপের আর বাকি ৯ দিন। কিন্তু এই খেলার ফাইনাল কে যাবে তা নিয়ে বিতর্ক সর্ব জায়গায়। বিতর্ক যাই হোক আসলে ফাইনালে কারা যাবে। আর এই গোল্ড কাপটি যাবে কার হাতে। 



বিশ্বকাপের দলগুলোর বাজারমূল্য এবং খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার ফির ওপর ভিত্তি করে একটা গবেষণা চালান বার্লিনভিত্তিক ডিআইডব্লু ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা। গবেষণার ফলটা সত্যি হলে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে স্পেন ও জার্মানির মধ্যে এবং ফাইনালে ফেবারিট থাকবে স্পেন। তবে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না জার্মানির সম্ভাবনাও। যে অর্থনীতিবিদেরা গবেষণাটি চালিয়েছেন তাঁদেরই একজন গার্ট ওয়াগনারের ভাষায়, ‘স্প্যানিশরা কিছুটা হলেও ফেবারিট। তবে জার্মানির জন্যও দীর্ঘ সময় পর এবারই শিরোপা জয়ের সবচেয়ে ভালো সুযোগ।’ এএফপি।



যে পদ্ধতিতে গবেষণাটি হয়েছে, ওয়াগনার আর তাঁর দুই সহকর্মী এর নাম দিয়েছেন, ‘টাকাই গোল করে’। বিশ্বকাপের অর্থনীতিনির্ভর এই গবেষণার ফলকে ধর্তব্যের মধ্যে রাখতে হচ্ছে ডিআইডব্লু ইনস্টিটিউটের অতীত সাফল্যের কারণে। এই একই পদ্ধতির গবেষণা থেকে পাওয়া পূর্বানুমান সত্যি করে ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ ও ২০১২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল স্পেন।






বিশ্বকাপের ফাইনাল ১৩ জুলাই। তবে তত দিন অপেক্ষার দরকার নেই। বার্লিনের ডিআইডব্লু ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, রিও ডি জেনিরোয় শিরোপা লড়াইয়ে নামবে স্পেন ও জার্মানি।


Disclaimer:

This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.